পটুয়াখালীর বাউফলে অবৈধ পপি বীজ জব্দ: ৬শ বস্তা নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অবৈধ পথে আমদানিকৃত প্রায় ৬শ বস্তা নিষিদ্ধ ‘পপি বীজ’ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার কালাইয়া বন্দর ধানহাট এলাকা থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে কালাইয়া ধান হাট সংলগ্ন খালে একটি ট্রলার থেকে ট্রাকে বস্তাগুলো লোড করা হচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েকশ বস্তায় সুপারি ছিল, অন্যসব বস্তায় ছোট ছোট দানা দেখা যায়। শ্রমিকদের সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় লোকজনকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা ভর্তি ট্রলার ও ট্রাক জব্দ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলারের ড্রাইভার বস্তার ভিতরে সুপারি আছে বলে তড়িঘড়ি করে তা ট্রাকে লোড করতে থাকে। এ সময় কয়েক শ্রমিক সুপারির বস্তার সঙ্গে অন্য বস্তায় কি আছে তা জানতে চাইলে ট্রলারের চালক ধমক দিয়ে চুপচাপ কাজ করতে বলেন। এতে শ্রমিকদের সন্দেহ আরও গভীর হয় এবং তারা স্থানীয়দের খবর দেয়। স্থানীয়রা এসে বস্তা খুলে পপি বীজ দেখতে পান, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সেগুলো জব্দ করে।
পাচারের অভিযোগ ও তদন্ত
ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো সমুদ্র পথে মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে বাউফলে এনে সড়ক পথে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। একটি সূত্র জানায়, বরিশালের এমপি বলে পরিচয়দানকারী জয়দেব ফিশিং ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও মিয়ানমার থেকে নৌপথে শাড়ি, সুপারি, পপি বীজ ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নিয়ে আসেন। পটুয়াখালীর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে তিনি এসব অবৈধ মালামাল খালাস করে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জয়দেব বলেন, “আমি ফিশিং ব্যবসার বাইরে কিছুই করি না।” এদিকে, ঘটনার পর থেকে ট্রলারের চালক ও কর্মচারীসহ কালাইয়া বন্দরের সিনেমা হল রোডের বাসিন্দা উত্তম দাস পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানায়, এসব মালামালের মালিক বরিশালের জয়দেব, যার শ্বশুরবাড়ি বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে। উত্তম দাস জয়দেবের শ্যালক হিসেবে চিহ্নিত। ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “সুপারিসহ ট্রলারে প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার বস্তা সুপারি ও ছোট দানা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬শ বস্তা ছোট দানা রয়েছে। এগুলো আসলে পপি বীজ কিনা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। অভিজ্ঞরা বলতে পারবেন। এগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত বলা যাবে।”
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে। অবৈধ মাদকদ্রব্যের পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে।



