ঝালকাঠির নলছিটিতে কবরস্থান প্রকল্পে ঘুসের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
ঝালকাঠির নলছিটিতে কবরস্থান প্রকল্পে ঘুসের অভিযোগ

ঝালকাঠির নলছিটিতে কবরস্থান প্রকল্পে ঘুসের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি বরাদ্দ প্রকল্পে ঘুস নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের শিকার হয়েছেন নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন। এই ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ পেয়েছে।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

মঙ্গলবার ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাটের একটি টিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ হয়। এই কাজের বিপরীতে পিআইও আওলাদ হোসেন অতিরিক্ত খরচ বাবদ মোট ৯ হাজার টাকা ঘুস নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির গঠন ও পদক্ষেপ

বুধবার সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাওসার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

কাওসার হোসেন বলেন, "দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আমরা এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

অভিযুক্তের অবস্থান

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পিআইও আওলাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, তিনি বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে নীরবতা পালন করছেন এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই ঘটনা নলছিটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করছেন। অনেকের মতে, কবরস্থানের মতো জনসেবামূলক প্রকল্পে এই ধরনের অনিয়ম সমাজে অবিশ্বাস ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।

এই ঘটনা প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।