দুদকের নতুন মামলায় সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ ও পরিবার
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজ, তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ (ইফতি) এর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়।
মামলার বিবরণ ও অভিযোগ
একটি মামলার বাদী হলেন জাকির হোসেন এবং অপর দুটি মামলার বাদী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, যাঁরা দুজনই দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক। তিনটি মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হলেন পিরোজপুরের দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম।
এর আগে মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা করেছে দুদক, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। নতুন মামলায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট, দোকান এবং দুটি বিলাসবহুল গাড়ি। ইতিমধ্যে পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে মহিউদ্দীন মহারাজের নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের সম্পদের তথ্য
দুদকের তথ্যমতে, সাবেক সংসদ সদস্য মহারাজের নিজের নামে ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদের নামে ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ছেলে শাম্মাম জুনাইদ একজন ছাত্র এবং তাঁর নিজের আয়ের কোনো উৎস নেই। প্রকৃতপক্ষে, তাঁর বাবা মহিউদ্দীন মহারাজ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জিত আয় থেকে শাম্মাম জুনাইদের নামে অর্জিত আয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের বক্তব্য ও অনুসন্ধান
পিরোজপুরের দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, "দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কমিশন মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয় এবং ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের উদ্যোগ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এই মামলাগুলো দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
