দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নাকচ, আদালতের রায়
দুদক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন নাকচ

দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নাকচ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৮ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি বলেন, "আমরা জামিন চেয়ে শুনানি করেছিলাম। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে। এরপর আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিবো। কি করা যায়। উচ্চ আদালতে যাবো না আবার এখানেই জামিন আবেদন করবো।"

মামলার পটভূমি ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া

উল্লেখ্য, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। অপর আসামিরা হলেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)। এ মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আটক রয়েছেন।

দুদকের অভিযোগ ও সম্পদের হিসাব

এদিকে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। গত ২৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৮ জানুয়ারি রাখেন। পরে ওইদিন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী আদেশ

উল্লেখ্য, সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিকদের আনিস আলমগীরের জামিনের আদেশ এসেছে। তবে দুদকের এই নতুন মামলায় জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় আইনি লড়াই জটিলতা বাড়ছে। আইনজীবী পপির মতে, তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, যা উচ্চ আদালতে আপিল বা একই আদালতে পুনরায় জামিন আবেদন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং সাংবাদিকদের আইনি অবস্থান নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।