দুর্নীতির অভিযোগে প্রকৌশলীর নারায়ণগঞ্জ পদায়ন বন্ধের দাবি নাগরিক আন্দোলনের
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলন একটি জোরালো দাবি জানিয়েছে, যেখানে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো. খাইরুল বাকেরকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার রাতে সংগঠনটির আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়, যা স্থানীয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট প্রতিবাদ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
পদায়নের পেছনের ঘটনা
৪ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা-২-এর যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খাইরুল বাকেরকে প্রেষণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে একই পদে বদলির আদেশ দেন। তবে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পদায়ন উদ্বেগজনক এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী।
দুর্নীতির অভিযোগের বিস্তারিত
বিবৃতিতে প্রকৌশলী খাইরুল বাকেরের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটি দাবি করে যে, তিনি আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একই পদে দায়িত্ব পালনকালে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন। পরে তাঁকে প্রেষণে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়, কিন্তু রাজশাহী সিটি করপোরেশন তাঁকে গ্রহণ না করায় এখন তাঁকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের সূত্রে জানা যায়, খাইরুল বাকেরের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা যায় তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে ছয় শ কোটি টাকা থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এমন একজন কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পদায়ন করা হলে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়তে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনে দুর্নীতির ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
সরকারের প্রতি আহ্বান ও প্রতিক্রিয়া
এ অবস্থায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা ওই কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে গ্রহণ না করার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া গেছে, যা এই ইস্যুতে সরকারি প্রতিক্রিয়ার অভাব নির্দেশ করতে পারে।
এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরছে, এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা কীভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
