মাদারীপুরে ডিবি পুলিশের তদন্তে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই নাটকের রহস্য উন্মোচন
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের ২৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত নাটক বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিবি পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই রহস্য উন্মোচিত হয়েছে, যা ব্যাংক কর্মকর্তার জটিল কৌশলের মুখোশ খুলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও তদন্তের সূচনা
জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি ব্যাংকের ডিএসআর সুশময় চক্রবর্তী তিনটি শাখা থেকে বিভিন্ন অংকে মোট ২৪ লাখ টাকা তুলে বাজিতপুর শাখায় নেওয়ার পথে উপজেলার কামালদী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে তিন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে গতিরোধ করে ওই টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ টাকা উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের ধরার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে এবং ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে মামলাটি মাদারীপুর ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়, যা ঘটনার গভীরে প্রবেশের পথ সুগম করে।
তদন্তের ফলাফল ও নাটকের কাহিনী
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ছিনতাইয়ের রহস্য উন্মোচন করে এবং জানায় যে ডিএসআর সুশময় চক্রবর্তী নিজেই এই নাটক সাজিয়েছিলেন। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বিভিন্নজনের নামে লোনের কিস্তির টাকা বিধিমোতাবেক আদায় করে ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের প্রয়োজনে আত্মসাৎ বা খরচ করে ফেলেন। একপর্যায়ে একসঙ্গে লোভনীয় অংকের টাকা হাতে আসায় পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করে পূর্বে আদায় করা ঐসব লোনের আত্মসাৎকৃত কিস্তির টাকা পরিশোধ করে দেন।
এই কৌশলটি তাকে আর্থিক অনিয়মের দায় থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিলেও, ডিবি পুলিশের তীক্ষ্ণ তদন্তে তার চালাকি ধরা পড়ে। টেকেরহাট ওই ব্যাংকের ডিএসআর সুশময় চক্রবর্তী রাজৈর উপজেলার সাহাপাড়া এলাকার মৃত সম্পদ চক্রবর্তীর ছেলে হিসেবে পরিচিত, যা তার ব্যক্তিগত পটভূমিও তুলে ধরে।
গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া
মাদারীপুর ডিবি পুলিশের ওসি রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ডিএসআর সুশময় চক্রবর্তী আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতার ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতাকেও প্রমাণ করে।
এই ঘটনা শুধু একটি আর্থিক অনিয়মই নয়, বরং এটি সামাজিক আস্থার উপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ব্যাংকিং সেক্টরে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ডিবি পুলিশের সফল তদন্ত আশা জাগায় যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
