ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ: ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা
ভূমি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি কমাতে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
জনগণের ভোগান্তি কমানোর প্রতিশ্রুতি
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে ভূমি ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে একটা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করছে সরকার। আমাদের লক্ষ্য ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে জমির মালিকদের হয়রানি কমানো।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভূমি মন্ত্রণালয় খুবই জটিল একটি প্রতিষ্ঠান, এবং দেশের মানুষের এই মন্ত্রণালয় নিয়ে ধারণা খুবই কম। এই ঘাটতি পূরণে নতুন উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকারের টিমওয়ার্ক ও আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টা
ভূমিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিকরা একই স্থানে ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা পাবেন, যা সময় ও অর্থ সাশ্রয় করবে। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ এবং সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি সম্ভব হবে।’
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান
রাজশাহী নগরীর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেশ আমাদের সবার। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।’ এই কথার মাধ্যমে তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা প্রসঙ্গে মন্তব্য
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের ‘বিশেষ নির্দেশনা’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। প্রশাসন চলে মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এটা আমি দেখবো।’ তিনি প্রশাসনিক বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সর্বোপরি, ভূমিমন্ত্রীর এই ঘোষণা ভূমি খাতে সংস্কার ও স্বচ্ছতা আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নাগরিকদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
