ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত
ডিএনসিসি প্রকৌশলী মিজানুর ররহমানকে অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীকে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৫-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষের এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়ে

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বুধবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ মোহাম্মদপুরে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে ফাটল, নিচের দিকে ধসে পড়া এবং অন্যান্য অনিয়ম লক্ষ্য করেন। প্রতিমন্ত্রীসহ স্থানীয় জনগণ এই কাজের মান নিয়ে ভীষণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটির কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ ও অদক্ষতার দায়ে মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বিধি মোতাবেক তিনি খোরাকি ভাতা পাবেন।

রায়েরবাজার কবরস্থানেও অনিয়মের ইতিহাস

এটি মিজানুর রহমানের প্রথম অনিয়মের ঘটনা নয়। গত বছরের ২ আগস্ট রায়েরবাজার কবরস্থানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কবরের উন্নয়নকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছিলেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ওই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ছিলেন এই মিজানুর রহমান।

সূত্রমতে, ওই সময় অনিয়মকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি মিজানুর রহমান। শুধু ইটগুলো পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে মিজানুর রহমান ওই ঘটনায় পার পেয়ে যান বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেন।

আগেও বরখাস্তের ইতিহাস রয়েছে

ঢাকা উত্তর সিটির সূত্রে জানা যায়, এর আগেও একবার প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল কর্তৃপক্ষ। সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের সময়ে তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে পদোন্নতি চেয়ে সরাসরি মেয়রকে চিঠি দিয়েছিলেন এবং উকিল নোটিশও দিয়েছিলেন।

এই ঘটনায় অসদাচরণ ও অদক্ষতার কারণে তখন তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বিভাগীয় মামলা হয়। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগে সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং ২২ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।

গত বছরের ২০ জানুয়ারি মিজানুর রহমান সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে অঞ্চল-৭-এ যোগ দেন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী করা হয়। গত বছরের ৫ মার্চ, প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজের দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে অঞ্চল-৭ থেকে অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়, একই আদেশে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বও দেওয়া হয়।