সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি জব্দের আদেশ, আদালতের নির্দেশে দুদকের তদন্ত
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি জব্দের আদেশ

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি জব্দের আদেশ

ঢাকার একটি আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে যুক্তরাজ্যে থাকা অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট এবং ১.২৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অন্যান্য সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের তদন্ত ও বিশেষ টাস্কফোর্সের ভূমিকা

আবেদন সূত্রে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যের লন্ডনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে।

তদন্তে উদ্ধার করা নথির মধ্যে রয়েছে বিদেশে সম্পত্তি কেনার চুক্তিপত্র, ডিড, পেমেন্ট অর্ডার, বুকিং মানির রশিদ, চেক এবং ভাউচার। এছাড়া যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদের প্রাথমিক তালিকাও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এই নথিগুলো অর্থপাচারের সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তির বিস্তারিত

লন্ডনের মেরিলিবোন স্কয়ারে ৬৫ লাখ ২১ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট, ওভাল ভিলেজে কয়েকটি ফ্ল্যাট, ক্ল্যারেনডন রোডে ১.২৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি এবং লিভারপুলের ওয়ান ইসলিংটন প্লাজায় একাধিক ইউনিটের তথ্য তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হারো, স্লফ এবং প্রেস্টনসহ অন্যান্য এলাকায় আরও সম্পত্তির তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

এই সম্পত্তিগুলোর মোট মূল্য কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের আদেশে এসব সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দুদকের তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ টাস্কফোর্সের তদন্তে আরও তথ্য উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতি দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই মামলার পরবর্তী ধাপগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে তদন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে।