টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের আবেদন ও অভিযোগের বিবরণ
দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর টিউলিপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির আবেদনটি করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, টিউলিপ তাঁর খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি রাজউকের আইন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদান-প্রদান করেছেন।
এই প্রক্রিয়ায় তিনি বিনা মূল্যে রাজধানীর গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু মামলা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই তিনি দেশত্যাগ করেছেন।
গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা ও রেড নোটিশের গুরুত্ব
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, টিউলিপ মামলার প্রমাণসহ আলামত বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন, যা তাঁকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত জরুরি করে তুলেছে। যেহেতু তিনি ইতিমধ্যে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাই তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। রেড নোটিশ একটি আন্তর্জাতিক সতর্কতা ব্যবস্থা, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারে সহায়তা করে।
টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলার ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কূটনৈতিক ও আইনি প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
পূর্ববর্তী ঘটনাবলি ও বর্তমান অবস্থা
টিউলিপের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। তিনি বাংলাদেশের করদাতা, ভোটার, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র ধারক হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন, যা এই মামলার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাঁর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রেপ্তারের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
