রাশেদ খানের দাবি: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের আর্থিক তদন্ত জরুরি
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাসহ দায়িত্বশীল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। রাশেদ খান বলেন, ‘গত সরকারের উপদেষ্টাসহ দায়িত্বশীল পদগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্তদের আর্থিক তদন্ত হওয়া উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক আর্থিক হিসাব পেশ করার কথা থাকলেও কোন মাসেই তা করা হয়নি। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করতে পারলে দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হতো।’
দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা
কয়েকজন উপদেষ্টার দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেছেন, ‘বেশকিছু উপদেষ্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারে থাকাকালীন সময়েই দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর সঠিক তদন্ত না হলে ঐসব ব্যক্তিদের উপর মানুষের সন্দেহ থেকেই যাবে।’ তিনি মনে করেন, এই তদন্তের বিষয়টি উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকেও আসা উচিত ছিল। রাশেদ খান লেখেন, ‘অন্তত কিছু মানুষকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য হলেও আর্থিক তদন্ত প্রয়োজন। বরং উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকেও এমন তদন্তের দাবি জানানো উচিত। কারণ গড়পড়তা অভিযোগ তাদেরও সামাজিক সম্মান নষ্ট করছে।’
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি
রাশেদ খানের মতে, আর্থিক তদন্ত শুধুমাত্র দুর্নীতি রোধের জন্য নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে দেশে একটি নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।’ এই দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে।
রাশেদ খানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে, যেখানে অনেক ব্যবহারকারী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক তদন্তের মাধ্যমে সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়া সম্ভব, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।’ এই আহ্বান রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
