ঢাকার আদালতে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড
ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের দুটি পৃথক মামলায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাকে ২০ লাখ টাকা জরিমানাও করেছে এবং জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের রায়ের বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সম্রাটকে ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অর্থ পাচারের মামলায় তাকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে, যেখানে একই ধরনের ডিফল্ট ধারা প্রযোজ্য। জাহিদুল ইসলাম বলেন, "পলাতক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলায় আদালত মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে।" তিনি যোগ করেন যে রায় ঘোষণার সময় সম্রাট পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও কার্যক্রম
এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছিল, যেখানে অভিযোগপত্রে তালিকাভুক্ত ২১ জন প্রসিকিউশন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। গত বছরের ১৭ জুলাই একই আদালত সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এবং তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়।
২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (ডিফল্ট) একজন উপপরিচালক প্রায় ২.৯৪ কোটি টাকা মূল্যের অভিযুক্ত অবৈধ সম্পদের জন্য তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এই মামলাগুলোর প্রক্রিয়া চলাকালীন সম্রাটের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত ছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই কঠোর রায়ের দিকে নিয়ে যায়।
এই রায়টি দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সমাজে জবাবদিহিতার বার্তা দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বও প্রতিফলিত হয়েছে।
