রূপগঞ্জে কারখানা লুটপাট: চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগে উত্তাল পরিবেশ
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে একটি জিআই তার উৎপাদনকারী কারখানায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের এই কারখানাটি ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ ১২টি দেশে রপ্তানি করে থাকে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে একদল লোক কারখানায় হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর, যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও মূল্যবান কাঁচামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদা দাবি ও হামলার পেছনে বিএনপি নেতাদের ভূমিকা?
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় এই হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে তারা জানান। অভিযোগে বিএনপির রূপগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তিনি সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশি প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি
কারখানা মালিক মনোয়ার হোসেনের মতে, হামলার সময় তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে দুই ঘণ্টা পরে পৌঁছায়। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবজেল হোসেন দাবি করেন, তিনি মামলায় সত্য ঘটনা দিতে বলেছেন, কারও নাম বাদ দিতে বলেননি। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা খোঁজ রাখছেন এবং তদন্ত চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক
এই ঘটনায় রূপগঞ্জের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার চাপের মধ্যে থাকলেও এ ধরনের হামলা ও লুটপাট নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ বলেছেন, ঘটনা সত্য হলে এটি ফৌজদারি অপরাধ এবং দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আইনগত তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে এবং ট্রাক এনে যন্ত্রপাতি লুট করেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ খান ও কর্মচারী জুলহাস উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
