দুদকের আবেদনে র‍্যাবের সাবেক ডিজি ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
র‍্যাবের সাবেক ডিজি ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

দুদকের আবেদনে র‍্যাবের সাবেক ডিজি ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ এবং তার স্ত্রী ফাতেহা ফারভীন লুনার নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

আদালতের আদেশের বিস্তারিত

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন। তিনি জানান, আদালতের এ সিদ্ধান্ত দুদকের জোরালো আবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, মো. হারুন অর রশিদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকায় ওয়ান ব্যাংকের বিভিন্ন মেয়াদি আমানত ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঞ্চয়পত্রসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার অধিক সম্পদ অবরুদ্ধের জন্য আবেদন করা হয়। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

অভিযোগের পটভূমি ও প্রভাব

র‍্যাবের সাবেক ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি ও তার পরিবার আয়ের বৈধ উৎস ছাড়াই বিশাল অংকের সম্পদ অর্জন করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আদালতের এ সিদ্ধান্ত দুর্নীতি দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, এটি র‍্যাবের মতো একটি সংস্থার সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলা দেশের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে একটি মাইলফলক হতে পারে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মো. হারুন অর রশিদ ও ফাতেহা ফারভীন লুনার নামে থাকা হিসাব ও সঞ্চয়পত্রে কোনো লেনদেন বন্ধ রাখবে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।