কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা: ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ, তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আতাউর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ধারা ২৬(১) মোতাবেক প্রেরিত সম্পদ বিবরণী ফরম নির্ধারিত সময়ে জমা দেননি। এটি আইনের ২৬(২) ধারার লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়েছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আতাউর রহমান ১০ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯৪১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা ভোগদখলে রেখেছেন। তিনি বর্তমানে কুষ্টিয়া পৌরসভার ম আ রহিম সড়কের বাসিন্দা, তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
আতাউর রহমানের পরিচয় ও পূর্বের মামলা
আতাউর রহমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কুষ্টিয়া পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের চাচাতো ভাই।
এর আগে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে আতাউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী সাম্মিয়ারা পারভীনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, সাম্মিয়ারা পারভীন তাঁর স্বামীর সহায়তায় ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭৪ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। সে মামলায় দুজনই জামিনে ছিলেন এবং এটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় দায়ের করা হয়েছিল।
দুদকের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
দুদক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আতাউর রহমানের সম্পদ বিবরণী ফরম না জমা দেওয়াকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, এই ধরনের কাজ দুর্নীতির মাত্রা বাড়াতে পারে এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে দিতে পারে।
দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এই মামলায় আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আতাউর রহমানের পলাতক থাকার বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার ফলে কুষ্টিয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দুদকের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে কিছু মহল এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।
দুদকের এই মামলা দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি অন্যান্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সংকেত দিতে পারে।
