দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশ: সাবেক এমপি ও পুলিশ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জামালপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম শিবলী নোমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ জারি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞা
দুদকের সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইনের দায়ের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালত এই আবেদন বিবেচনা করে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
শিবলী নোমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞা
দুদকের উপসহকারী পরিচালক রুবেল হোসেনের আবেদনে বলা হয়েছে, শিবলী নোমানের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান, ক্যাসিনো ব্যবসাসহ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তিনি এখনও দেশে অবস্থান করছেন এবং দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার বিদেশ গমন ঠেকানো আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত এই আবেদনের ভিত্তিতে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
আদালতের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য
এই নিষেধাজ্ঞা দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতি দমনে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে জোরদার করতে পারে।
