যাত্রাবাড়ীতে লেগুনাচালক হত্যা: পুলিশের গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজনৈতিক নিন্দা
লেগুনাচালক হত্যায় গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজির অভিযোগে নিন্দা

যাত্রাবাড়ীতে লেগুনাচালক হত্যা: পুলিশের গ্রেপ্তার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় লেগুনাচালক নুরে আলম (৩৫) হত্যার ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শনিবার এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নিহত নুরের পরিবার পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশের ব্যাখ্যা: সিরিয়াল নিয়ে দ্বন্দ্ব

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে লেগুনার সিরিয়াল ও যাত্রী ওঠানামা নিয়ে দ্বন্দ্ব জড়িত। তিনি বলেন, 'নুরকে যাঁরা মারধর করেছিলেন, তাঁরাও লেগুনাচালক। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।' তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ওসি রাজু আরও উল্লেখ করেন, নুরে আলমকে মারধরের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের মতে, এই ঘটনা স্থানীয় লেগুনাচালকদের মধ্যকার বিরোধের ফলাফল, যা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রাজনৈতিক দলের অভিযোগ: চাঁদাবাজির জেরে হত্যা

পুলিশের ব্যাখ্যার বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন এই হত্যাকাণ্ড চাঁদাবাজির জেরে ঘটেছে দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রোববার লিখেছেন, 'নুরকে চাঁদা লেনদেনের ঘটনায় চাঁদাবাজরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।'

শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, 'চাঁদার এ সংস্কৃতিকে এমনভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে, যেন চাঁদা না দেওয়াই অপরাধ। নেতৃত্বের জায়গা থেকে যখন চাঁদাবাজির বৈধতা দেওয়া হয়, তখন এ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার ওপরেই বর্তাবে।' তিনি চাঁদাবাজবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'প্রিয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদাবাজবিরোধী আরেকটি আন্দোলন গড়ে তোলা এখনই সময়ের দাবি।'

ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতি: আধিপত্যের লড়াই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে বলেছে, যাত্রাবাড়ীতে লেগুনাচালকদের নানা জায়গায় চাঁদা দিতে হয় এবং চাঁদা আদায় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই চলে। সংগঠনটির দাবি, এই হত্যাকাণ্ড চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আমাদের হতাশ করেছে।' এটি সমাজে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি কতটা গভীরে প্রোথিত, তা তুলে ধরে।

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুরে আলম হত্যা মামলায় পাঁচজন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত একজন ছাড়াও বাকি আসামিদের ধরতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ওসি মোহাম্মদ রাজু নিশ্চিত করেছেন, 'আমরা দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি এবং ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছি।'

এই ঘটনা যাত্রাবাড়ী এলাকার লেগুনাচালক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে পুলিশের তদন্ত এবং রাজনৈতিক দলের অভিযোগ পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করছেন।