চট্টগ্রাম ও ঢাকার তিন কনটেইনার টার্মিনাল ইজারায় দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে তদন্তের দাবি
তিন কনটেইনার টার্মিনাল ইজারায় দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে তদন্ত দাবি

চট্টগ্রাম ও ঢাকার তিন কনটেইনার টার্মিনাল ইজারায় দুর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং ও লালদিয়া এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ নামের একটি সংগঠন বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে দাবি জানিয়েছে।

দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা

রোববার রাজধানীর দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংগঠনটির নেতারা এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর আগে, সংগঠনটি লিখিত অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকে জমা দিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র মো. আল আমিন হোসেন দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখনো সে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

অস্বাভাবিক দ্রুত চুক্তি ও গোপন শর্ত

আল আমিন হোসেন আরও বলেন, গত ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল ইজারার ৪৮ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি এবং একই দিনে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল ইজারায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএ কোম্পানির সঙ্গে ২২ বছরের কনসেশন চুক্তি সই করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই চুক্তিগুলো অস্বাভাবিক দ্রুততায় সম্পন্ন হয়েছে এবং নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা গোপন শর্তের আওতায় করা হয়েছে। উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান না করে নির্দিষ্ট বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ায় বড় ধরনের কমিশন-বাণিজ্য ও দুর্নীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিডা চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ

সংগঠনটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবাদের মুখে নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা উদ্যোগটি আগে স্থগিত হলেও বর্তমানে আবারও একই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তের মাধ্যমে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজের এই পদক্ষেপ দুর্নীতি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।