দুদকের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
দুদকের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

দুদকের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে কাজী জাফর উল্যাহকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগের বিবরণ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, তিনি দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ১০টি এফডিআর হিসাব খোলেন। এসব হিসাবে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা করা হয় এবং পরে হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সুদ গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক শারিকা ইসলাম আদালতে জানান, আসামি বর্তমানে অন্য একটি ফৌজদারি মামলায় কারাগারে আটক আছেন। দুদকের মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে জাফর উল্যাহকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

কাজী জাফর উল্যাহ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

এই মামলাটি দুদকের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আর্থিক জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার কঠোরতা প্রতিফলিত করে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তের অগ্রগতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।