পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে পুলিশের কোনো সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে আইজিস ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারকারী ইউনিটগুলোকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান
আইজিপি বলেন, ‘মাদক আমাদের যুবসমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’ বাংলাদেশ পুলিশকে একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। এ সময় সব পুলিশ সদস্যকে দেশের কল্যাণে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান আইজিপি।
আইজিস ব্যাজ প্রদান
অনুষ্ঠানে গত বছরের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পর্যন্ত ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’ (আইজিস ব্যাজ) পরিয়ে দেন আইজিপি।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার
পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। ‘ক’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ এবং তৃতীয় হয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। ‘খ’ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং খুলনা মহানগর পুলিশ তৃতীয়। ‘গ’ গ্রুপে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ প্রথম, মাগুরা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে র্যাব-১১ (নারায়ণগঞ্জ), দ্বিতীয় র্যাব-১৫ (কক্সবাজার) ও তৃতীয় র্যাব-২ (ঢাকা)। ‘ঙ’ গ্রুপে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ দ্বিতীয় ও মিরপুর বিভাগ তৃতীয়।
মাদক উদ্ধারে পুরস্কার
গত বছর মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় কক্সবাজার জেলা পুলিশ এবং তৃতীয় হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ প্রথম, শেরপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও গাজীপুর জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেছে র্যাব-১৫ (কক্সবাজার), দ্বিতীয় র্যাব-৯ (সিলেট) ও তৃতীয় র্যাব-১১ (নারায়ণগঞ্জ)। ‘ঙ’ গ্রুপে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ দ্বিতীয় ও মতিঝিল বিভাগ তৃতীয়। ‘চ’ গ্রুপে হাইওয়ে পুলিশ প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় এবং এপিবিএন তৃতীয়।
শিল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতা
শিল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে আট মহানগরের পুলিশ দল। দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে এপিবিএন এবং তৃতীয় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ।



