হানিফ-স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ আদালতের
হানিফ-স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের আদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে আবেদন দুটি করেন সংস্থার উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া। আদালতে শুনানি করেন দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল। শুনানি শেষে আবেদন দুটি মঞ্জুর করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হানিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মাহবুবুল আলম হানিফের আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি পাবলিক সার্ভেন্ট ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন, দখলে রাখা এবং ১৮টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা জমা ও ৪৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৮৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এছাড়া মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি মাহবুবুল আলম হানিফের সব আয়কর নথি জব্দ করার নিমিত্তে আদালতের আদেশ প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফৌজিয়া আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ফৌজিয়া আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি ফৌজিয়া আলম (৫৩) এবং মো. মাহবুবুল আলম হানিফ (৬৬) একে অন্যের সহায়তায় পারস্পরিক যোগসাজশে সংগতিবিহীন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন, দখলে রাখা এবং ১৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৭ কোটি ৫ লাখ টাকা জমা ও ১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। তিনি ও তার স্বামী মো. মাহবুবুল আলম হানিফ কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালীন মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি ফৌজিয়ার সব আয়কর নথি জব্দ করার নিমিত্তে আদালতের আদেশ প্রয়োজন।