এসডিএফের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি
এসডিএফের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে সংস্থার বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিনের অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

শনিবার (৯ মে) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার ফৌজিয়া তৌহিদ বলেন, ড. আব্দুল মজিদ এসডিএফের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। সংস্থার এইচআর পলিসি লঙ্ঘন করে তিনি ষাটোর্ধ নুরুল আমিনকে নিয়মিত সুবিধাসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছেন, যা বিধিবহির্ভূত।

ল্যাপটপ ক্রয়ে দুর্নীতি

সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংস্থার চলমান ‘আরইএলআই’ প্রকল্পের ৩ হাজার ২০০ গ্রাম সমিতির জন্য ল্যাপটপ ক্রয় নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাম সমিতিগুলোর স্থানীয় বাজার থেকে ল্যাপটপ কেনার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান ও এমডির যোগসাজশে নিম্নমানের ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুব প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি

তিনি বলেন, ড. মজিদ নিজের পছন্দের অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে পূর্বের টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজে ইউসেপ বাংলাদেশের বোর্ড সদস্য হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ১ কোটি টাকা বেশি মূল্যে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছেন। পাশাপাশি আবাসন সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও ‘মাইডাস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণের কাজ দিতে ক্রয় কমিটিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

নিয়োগ বাণিজ্য ও চাকরিচ্যুতি

ফৌজিয়া তৌহিদ বলেন, এসডিএফের জনবল নিয়োগ নিয়েও চলছে চরম অস্থিরতা। এইচআর পলিসি অনুযায়ী দক্ষ জনবলকে পরবর্তী প্রকল্পে পদায়নের নিয়ম থাকলেও নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ৩২০ জন অভিজ্ঞ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এতে বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ২০০ দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প হুমকির মুখে

এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক চলমান প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ফলে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সংস্থাটিকে বাঁচাতে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও এমডিকে দ্রুত অপসারণ করে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

উপস্থিত কর্মকর্তারা

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসডিএফের পরিচালক মো. লুৎফর রহমান, আঞ্চলিক পরিচালক মীম জুলফিকার, মহাব্যবস্থাপক শহিদুল্লাহসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।