রাজবাড়ী জেলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) তৎপরতায় এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের পরিবারকে জরিমানা করা হয় এবং উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আনসার-ভিডিপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খানখানাপুর ইউনিয়নের আনসার-ভিডিপি দলনেত্রী মালা কুণ্ডু সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুর রহিম মিয়াকে ফোন করে পাশের ইউনিয়নে একটি বাল্যবিবাহের আয়োজনের তথ্য দেন। খবর পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি জেলা আনসার ও ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত জেলা কমান্ড্যান্ট মো. জুয়েল রানাকে অবহিত করেন।
পরে জেলা কমান্ড্যান্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিবাহের সত্যতা পান। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কনের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে মেয়েটির ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না এই মর্মে ছেলে ও মেয়েপক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
কনের পরিচয়
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কনে ঋতু খাতুন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী জন্ম ২০০৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। সে হিসাবে তার বয়স ১৬ বছর ৭ মাস, যা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়।
প্রশংসা ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এই ধরনের তৎপরতা বাল্যবিবাহ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



