প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম। এই রিপোর্টে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি প্রতিবেদন স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ–কাণ্ডের’ দুর্নীতির প্রতিবেদন।
অডিট রিপোর্ট পেশ
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম। এই রিপোর্টে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার আর্থিক কার্যক্রমের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বালিশ-কাণ্ডের বিবরণ
২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনে আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ‘বালিশ–কাণ্ড’ দুর্নীতি সামনে আসে। প্রতিটি বালিশ কেনায় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ওপরে তোলার খরচসহ অন্য সামগ্রীতে কোটি টাকার জালিয়াতি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশের মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন, সেখানে বালিশ–কাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনও আছে। প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে বলেছেন, এই দামি বালিশ একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।
দুর্নীতির বিস্তারিত
‘বালিশ–কাণ্ড’ দুর্নীতির ওই প্রকল্পে আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজারমূল্য অবশ্য ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।
অডিট রিপোর্ট পেশকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



