ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ নেতা-কর্মীর নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রদল বলছে, অভিযুক্তরা কেউই স্বেচ্ছায় ছাত্রলীগে যোগ দেননি — হলে আবাসনের সুযোগ পেতে গিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নাম ছাত্রলীগের কমিটিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে যা জানাল ছাত্রদল
মঙ্গলবার (৬ মে) বেলা তিনটার দিকে কলেজ ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটি। গত ১ মে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হন তানভীর আব্দুল্লাহ এবং সদস্যসচিব হিসেবে মেহেদী হাসান।
কমিটি ঘোষণার পরপরই ফেসবুকে প্রচার শুরু হয় যে, এতে ২০২৩ সালে গঠিত মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির পদধারী ১১ জন ঠাঁই পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। তিনি জানান, কলেজের ছেলে শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ভাগ আবাসন সুবিধা রয়েছে। এই সীমিত সুযোগের মধ্যেও অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীকে বিগত সময়ে জোর করে ছাত্রলীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
ছাত্রদলের দাবি: জোর করে নাম জুড়ে দেওয়া
যাদের নিয়ে এখন সমালোচনা হচ্ছে, তারা সবাই ম-৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ২০২৩ সালের প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার্থী হিসেবে তখন ছিলেন সবচেয়ে জুনিয়র ব্যাচ। ছাত্রদলের দাবি, এই শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের কোনো কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না; কিন্তু হলে থাকার কারণেই তাদের নামে ছাত্রলীগের পদ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। সংগঠনটির ভাষায়, 'হলে থেকেছে অথচ ছাত্রলীগের পদ দিয়ে সিল মারা হয়নি — এমন ঘটনা ঘটেনি।'
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে হলে আবাসনরত শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে ট্যাগ করে রাখা হয়। যাদের অনেকে কখনো ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি; বরং গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তারা ছাত্রদলের পাশে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সেই শিক্ষার্থীদেরই এবার ছাত্রদলের কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
ছাত্রদলের অভিযোগ: মিডিয়া ট্রায়ালের চেষ্টা
ছাত্রদল আরও অভিযোগ করে, ৫ আগস্টের পর 'গুপ্ত রাজনীতি'র ডাকে সাড়া না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই ন্যারেটিভ ছড়িয়ে ছাত্রদলকে মিডিয়া ট্রায়ালের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপসহ অন্যরা।



