ফেনীর সোনাগাজীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে ও রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুরে পৃথক এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা
আহতরা হলেন- আলা উদ্দিন, শেখ ফরিদ, রাহাতুল ইসলাম বিজয়, সাখাওয়াত হোসেন, আব্দুস শুক্কুর, সৈকত, করিম ও সৌরভ।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সোনাপুর হাজী শামসুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জাফর ও সুমনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জেরে বিকাল তিনটার দিকে হাজী রহিম উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জাফরের স্বজনরা মিলে সুমনের আত্মীয় রিকশাচালক ও যুবদলকর্মী আলা উদ্দিনকে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে দুটি পা ভেঙে দেন। পরে তার আত্মচিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও মাথা ফাটিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় যুবদল নেতা এনামুল হক শাহীনের অনুসারীরা সাবেক ছাত্রদল নেতা সোহাগ নূরের অনুসারী রাহাতুল ইসলাম বিজয়কে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই দুপক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়।
এক পর্যায়ে সোহাগের অনুসারী যুবদলকর্মী শেখ ফরিদের মাথা ফাটিয়ে দেন শাহীনের অনুসারীরা। চতুর্থ দফায় রাত নয়টার দিকে শাহীন গ্রুপ ও সোহাগ গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিলে দুপক্ষের অনুসারীদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ব্যবস্থা
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতদের মধ্যে আলা উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমান যুবদল নেতা সোহাগ নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুজন শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা প্রথমে কিশোর গ্যাং এবং পরবর্তীতে দলীয় গ্রুপিংয়ে জড়িয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হোক।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে পৃথক হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



