ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিষপানে নারীর আত্মহত্যা, স্বামীকে বার্তা পাঠান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিষপানে নারীর আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এক নারী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।

নিহত নারীর পরিচয়

নিহত নারীর নাম লিলি আক্তার (২২)। তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রাধানগর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে ও দুবাই প্রবাসী আশিকের স্ত্রী। অন্যদিকে, তিনি নবীনগর উপজেলার ধরাভাঙা গ্রামের আব্দুর রহিম ও নাজমা বেগমের মেয়ে।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নবীনগর বাজারে বিষপানের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের করিডোরে নিহতের মা নাজমা বেগমসহ স্বজনরা নীরবে কাঁদছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাজমা বেগম বলেন, “আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না। সে ১৭ মাসের মেয়েকে রেখে চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। তার মরদেহ লাশঘরে রাখা হয়েছে। তবে, যাওয়ার আগে বলে গেছে মেয়েকে স্বামীর কাছে দিয়ে দিতে।”

পারিবারিক কলহের কারণ

নিহতের মামি আরজিনা জানান, প্রায় তিন বছর আগে দুবাই প্রবাসী আশিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুঠোফোনে বিবাহ হয় লিলির। বিয়ের বছরখানেক পর ছুটিতে একবার দেশে আসেন আশিক। গত ১৭ মাস আগে তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়, যার নাম রাখা হয় রোকেয়া। সন্তান নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন এই মা-মেয়ে।

নাজমা বেগম বলেন, বিয়ের পর বেশ কিছু দিন ভালোই ছিল। পরে লিলির শ্বশুর মজিবুর রহমান, শাশুড়ি খোরশেদা ও ননদ তানহা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাকে মানসিক নির্যাতন করত। এসব নিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হতো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরজিনা বলেন, “এবার যা ঘটেছে, বাচ্চার চুল কাটা নিয়ে। শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বকাঝকা দেয়। মেয়ে চুল কাটাতে চেয়েছিল। কিন্তু, তার শ্বশুর-শাশুড়ি চাচ্ছিল না। তারা বলেছিল, চুল কাটার আগে আশিকের সঙ্গে কথা বলে নিতে। বাবা-মায়ের সঙ্গে মিল রেখে সেও চুল কাটাতে না করে। এ ছোট বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হলে লিলি শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশে বের হয়ে আসে। পথে নিজ উপজেলার বাজার থেকে বিষাক্ত কীটনাশক কিনে সেবন করে। তার ছবি তুলে স্বামীর মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়ে স্বামীকে বলেছিল, ‘তোকে শান্তি করে দিলাম’।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি তাৎক্ষণিক আশিক আমাদের ফোনে জানায়। তখন আমরা দ্রুত ওই বাজারের কাছে গিয়ে তাকে পাই। পরে বাসায় নিয়ে আসা হয়। তখন সে কিছু বলছিল না। পরে দেখতে পাই, সে যেন কেমন করছে। তখন দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওখানে নাকি এর চিকিৎসা হবে না। তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। আমরা সেখানেই নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা লিলিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। এখানে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।”

মৃত্যুর পরবর্তী পদক্ষেপ

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।