সুনামগঞ্জে 'হানি ট্র্যাপ' চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার, তিনজনের কাছ থেকে টাকা ও সোনা আদায়
সুনামগঞ্জে 'হানি ট্র্যাপ' বা ভালোবাসার ফাঁদ চক্রের এক নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই চক্রের শিকার হওয়া তিনজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও সোনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে হানি ট্র্যাপ চক্র?
হানি ট্র্যাপ হলো একধরনের অপকৌশল, যেখানে যৌনতার প্রলোভন দেখিয়ে বিপক্ষ শিবির থেকে তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। সুনামগঞ্জের ঘটনায়, এক নারী প্রথমে মুঠোফোনে পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর কৌশলে তাদের বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয় এবং মারধর চালানো হয়। এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগীদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনজন ভুক্তভোগীর মধ্যে একজন সরকারি কর্মচারী, যিনি জেলা সমবায় বিভাগে কাজ করেন। তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, এক ব্যবসায়ী ছয় লাখ টাকা খুইয়েছেন, আরেক ব্যবসায়ী সোনা ও টাকাপয়সা হারিয়েছেন। ভুক্তভোগী সরকারি কর্মচারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও করা হয় এবং বেধড়ক মারধরের শিকার হতে হয়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রতন শেখ বলেন, 'আমরা একটি ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করি। এখন আরও দুজন ব্যবসায়ী এসে একইভাবে ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা ভিডিও দেখিয়েছেন এবং তথ্য–প্রমাণ দিয়েছেন। আমরা ওই চক্রে যুক্ত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনব।'
গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন অজিত চন্দ্র দাস (৪০), যিনি জেলা সমবায় বিভাগের কর্মচারী। অন্যজন হলেন জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এক নারী (৩০)। পুলিশ অজিতকে আটক করার পর ওই নারীর সন্ধান জানতে চায় এবং একটি কৌশলের মাধ্যমে তাঁকে শহরে ডেকে এনে আটক করে। গত রোববার তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সোমবার আরও দুজন ব্যবসায়ী থানায় যোগাযোগ করে এই চক্রের শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের একজনকে ট্র্যাপে ফেলে বিবস্ত্র অবস্থায় গলায় জুতার মালা পরিয়ে ভিডিও করা হয় এবং হাত-পা বেঁধে পেটানো হয়। অন্যজন, যিনি শহরের একজন সোনার দোকানদার, তাঁকেও একইভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
পুলিশের তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
পুলিশ এখন এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ বলেছেন, 'আমরা ওই চক্রে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, খতিয়ে দেখছি। থাকলে সবাইকে ধরা হবে।' ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ দিয়েছেন, যা তদন্তে সহায়তা করছে।
এই ঘটনা সুনামগঞ্জে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হানি ট্র্যাপের মতো অপকৌশল থেকে সুরক্ষিত থাকতে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।



