খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশ জারির এক দিন পর তিনি খুলনার কর্মস্থল ছেড়ে গেছেন।
বদলির আদেশ ও পদত্যাগ
কেএমপির ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে তৈমুর ইসলাম স্টেশন ত্যাগ করেছেন। তিনি ডিবির পরিদর্শক (অ্যাডমিন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে ওই দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক লুৎফুল কবীর।
পুলিশ সদর দপ্তর গত সোমবার রাতে তৈমুর ইসলামকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করার আদেশ জারি করে। এর আগে গত রোববার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তৈমুর ইসলামের বাড়ি খুলনা সদরের খানজাহান আলী সড়কে। পড়াশোনাও করেছেন খুলনায়।
অভিযোগ ও তদন্ত
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায়—তৈমুরের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান দখলে সহযোগিতা করতে কাউকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো, মামলায় ঢোকানো ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ উঠে আসে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা পরিদর্শন ইউনিট পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইটের (পিআইও) প্রতিবেদনেও তৈমুর ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ–অনিয়মে জড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। পরে গত বছর সেই প্রতিবেদন ধরে কেএমপির অনুসন্ধান শেষে তৈমুর ইসলামকে অন্য কোনো ইউনিটে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিল।
পূর্বের বদলির আদেশ
গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাঁকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলির প্রজ্ঞাপন হয়। তাঁকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র নিতে বলা হয়। অন্যথায় ২৬ অক্টোবর থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হয়েছেন বলে গণ্য হবেন বলেও উল্লেখ ছিল। তৈমুর সেই বদলির আদেশ বাতিলের আবেদন করলে ১৮ নভেম্বর তা নামঞ্জুর হয়। এর চার দিন পর ২৩ নভেম্বর ট্যুরিস্ট পুলিশে তাঁর পদায়নের আদেশ বাতিল করে খুলনা রেঞ্জে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এই তিন আদেশের পরও তৈমুর কেএমপি ছাড়েননি। খুলনা রেঞ্জে বদলির সেই আদেশও এ বছরের ১৫ মার্চ বাতিল করা হয়। সেই আদেশেও সই করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন)। অর্থাৎ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দফায় দফায় আদেশ হলেও শেষ পর্যন্ত বেনজীর-ঘনিষ্ঠ সেই পরিদর্শককে কেএমপি থেকে সরানো যায়নি।
বেনজীর আহমেদের রিসোর্ট বিতর্ক
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের রিসোর্টের জন্য ভয় দেখিয়ে জমি কিনে এর আগে আলোচিত হয়েছিলেন পরিদর্শক তৈমুর। র্যাবের মহাপরিচালক ও আইজিপি (মহাপরিদর্শক) থাকাকালীন (এপ্রিল ২০১৫–সেপ্টম্বর ২০২২) সাভানা ইকোরিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক গড়ে তোলেন বেনজীর আহমেদ। স্থানীয় লোকজন জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বৈরাগীরটোলার ওই রিসোর্ট বানানোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন তৈমুর।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। তবে তৈমুর ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।



