নাটোরের সিংড়ায় বাড়ির সীমানায় টয়লেটের গর্ত করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিবাদের জেরে মেজো ছেলে নিজের মাকে গলাটিপে হত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। পরে লাশ টয়লেটের গর্তে ফেলে স্লাব দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। দশ দিন পর দুর্গন্ধ ছড়ালে লাশ বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের কচুরিপানার ডোবায় ফেলে দেয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের গর্ত করা নিয়ে বড় ভাই শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মেজো ভাই জনাব আলীর (৫৫) কথা কাটাকাটি হয়। যৌক্তিক কারণে বড় ছেলের পক্ষ নেন মা মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা (৭৫)। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৫ মে রাত ৯টায় জনাব আলী তার মাকে গলাটিপে হত্যা করেন।
হত্যার পর জনাব আলী মায়ের লাশ ওই টয়লেটের গর্তেই ফেলে স্লাব দিয়ে ঢেকে রাখেন। ৪ জুন লাশের দুর্গন্ধ ছড়ালে তিনি লাশ বস্তাবন্দি করে গভীর রাতে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেন। এ কাজে তার ছেলে আল আমিন (২৫) সহযোগিতা করে।
মামলা ও গ্রেফতার
৬ জুন নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম তার মায়ের হারানো বিষয়ে সিংড়া থানায় জিডি করেন। এর ভিত্তিতে ৯ জুন পুলিশ ডোবা থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। বুধবার দুপুরে সিংড়া থানা চত্বরে প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য দেন।
পুলিশ সুপার জানান, নিখোঁজের ১৫ দিন পর লাশ উদ্ধার করা হয়। এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লে নিহতের চার ছেলেসহ স্বজনদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জনাব আলী ও তার ছেলে আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



