চাচাকে বাবা বানিয়ে জাল দলিলে কোটি টাকার জমি বিক্রি, প্রতিবাদে পিটুনি
চাচাকে বাবা বানিয়ে জাল দলিলে কোটি টাকার জমি বিক্রি, পিটুনি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি গ্রামে জাল-দলিল করে প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিবাদ করায় জমির মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ

বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সিরাজদিখান থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. হযরত আলী। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার চাচাতো ভাই মো. আক্কাস আলী ও হামেদ আলী তার চাচা রেজু বেপারীকে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে জাল কাগজপত্র ও দলিল তৈরি করে বালুচর মৌজার ১৪৩নং খতিয়ানের ২২৭৯ ও ২২৮০নং দাগের প্রায় ৪৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এই জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবাদ করায় মারধর

বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. হযরত আলী বলেন, “আমার বাবার নাম রেজু বেপারী। আর মো. আক্কাছ আলী ও মো. হামেদ আলী আমার চাচাতো ভাই। আমি বাইরে থাকার সুযোগে আমার বাবা রেজু বেপারীকে মো. আক্কাছ আলী ও মো. হামেদ আলী তাদের বাবা সাজিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় আক্কাছ আলী, আলউদ্দিন ও হামেদ আলী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং রড দিয়ে মারধর করে আহত করেছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

স্থানীয় মো. শাজাহান মোল্লা বলেন, “আমি ঘটনাস্থলের কাছে ছিলাম। হট্টগোল শুনে এগিয়ে গেলে দেখি হযরত আলীকে মারধর করা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”

মোছা. রহিমা বেগম নামে এক নারী বলেন, “সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে ঝগড়ার একপর্যায়ে হযরত আলীকে মারধর করা হয়েছে বলে শুনেছি এবং পরে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তদের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য

সিরাজদিখান থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”