চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম বিপ্লব হোসেন। তিনি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে গতকাল রাতে জীবননগর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন স্ত্রী শিখা খাতুন (১৯)।
অভিযোগের বিবরণ
শিখা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল, টাকা ও দামি মুঠোফোন দাবি করে আসছিলেন। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সেই নির্যাতনের কারণেই তাঁর গর্ভের সন্তান মারা গেছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি খুলনা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকের (ডিআইজি) সঙ্গে কথা বলেছেন। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
পারিবারিক পটভূমি
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের শাহাবুল হোসেনের ছেলে বিপ্লব হোসেনের প্রায় ১০ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর গর্ভবতী হন শিখা।
শিখার মা আরিফা খাতুন বলেন, বিয়ের সময় ছেলেপক্ষের কোনো দাবি ছিল না। তবে বিয়ের পর থেকে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোনের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। দাবি পূরণ না করায় বিপ্লব প্রায়ই তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করতেন।
ঘটনার বিবরণ
শিখা খাতুনের ভাষ্য, গত ২৬ মে যৌতুকের বিষয় নিয়ে শিখাকে গালাগাল করার একপর্যায়ে লাথি, কিল ও ঘুষি মারেন বিপ্লব। এর পর থেকেই শিখা অসুস্থতা অনুভব করতে থাকেন। ঈদের পরদিন বাবার বাড়িতে যাওয়ার পরও পেটে অস্বস্তি ছিল। পরে গত সোমবার জীবননগর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে চিকিৎসকেরা জানান, গর্ভের সন্তান মারা গেছে।
শিখা বলেন, বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানানো হলেও তাঁরা কোনো গুরুত্ব দেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হন এবং গতকাল সকালে একটি সন্তান প্রসব করেন। এ খবর পেয়েও তাঁর স্বামী হাসপাতালে দেখতে যাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার প্রক্রিয়া
শিখার দাবি, এ ঘটনায় মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন শিখা খাতুন। তবে থানায় যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চাপে তিনি মামলা না করার বিষয়ে পুলিশের কাছে লিখিত দেন। পরে মৃত শিশুর লাশ দাফনের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিয়ে গেলেও বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সন্ধ্যায় লাশটি আবার থানায় আনা হয়।
এর মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি জানার পর নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়। পরে শিখা খাতুন তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল রাতে আবার থানায় যান। রাত ৯টার দিকে মামলা করা হয়।



