হজ ফ্লাইটের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: বিমান বাংলাদেশ
হজ ফ্লাইটের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: বিমান

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হজ ফ্লাইটের ১৫০ হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

বুধবার (৩ মে) প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহ্‌নূর আহমাদ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪১৯ জন হাজিকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট ‘বিজি-৩১০৪’ ঢাকায় অবতরণ করে। পরে একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিমান ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের ফলাফল

তদন্তে বলা হয়, ফ্লাইটটি রাত ২টা ৫২ মিনিটে অবতরণ করে এবং ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগ ডেলিভারি শুরু হয়। রাত ৩টা ৫১ মিনিটে মোট ৮৩৬টি ব্যাগের সবকটি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়া নিরাপত্তা বাহিনী ও এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ২১টি ব্যাগ আগেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে ঢাকায় লাগেজ কাটা বা চুরির কোনো প্রমাণ মেলেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে উত্থাপিত অভিযোগের মতো ১৫০ জন নয়, মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী ব্যাগ ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার অভিযোগ করেন। এসব ব্যাগে জমজমের পানি, শ্যাম্পু, লোশন ও খেজুর ছিল বলে জানা গেছে। কোনো যাত্রীই মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার লিখিত অভিযোগ দেননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিমানের ব্যাখ্যা

বিমান জানায়, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী চেক-ইন ব্যাগেজে জমজমের পানি বা ঠিকভাবে সিল না করা তরল সামগ্রী বহনে বিধিনিষেধ রয়েছে। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব পাওয়া গেলে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ লাগেজ খুলে বা প্রয়োজন হলে কেটে জব্দ করতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ চেক-ইন লাগেজে বহন নিষিদ্ধ।

উপসংহার

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, সিসিটিভি, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক ও সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পর্যালোচনায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ঢাকায় লাগেজ কাটা বা চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগটি সত্য নয় বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, লাগেজ বিমান থেকে নামানোর পর বেল্ট পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত কোথাও কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ হয়নি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু ব্যাগ জেদ্দা থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাঠানো হয়েছিল।