নারায়ণগঞ্জ থেকে পিকআপ নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাই করে নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে যাওয়ার অভিনব কৌশল নেওয়া এক সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে দুই বোনের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন আনোয়ার হোসেন ও জুয়েল ওরফে আরিফ।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে ভোরে ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে নিজেদের বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুই বোন। চাপাতির ভয় দেখিয়ে ছিনতাইকারীরা তাদের একটি ট্রলি, হ্যান্ডব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ এই ছিনতাইয়ে জড়িত অভিযোগে আনোয়ার ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে।
চক্রের কৌশল
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ছিনতাইকারী এই চক্রের সদস্যরা আগে মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন বলে এই এলাকার রাস্তাঘাট সম্পর্কে তাদের বেশ ভালো ধারণা রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে গত প্রায় ছয় মাস ধরে তারা নারায়ণগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। সেখান থেকে পিকআপ নিয়ে তারা মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাই করে আবার ফিরে যেতেন।
গ্রেপ্তার আনোয়ার ও জুয়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ছিনতাই হওয়া ট্রলি ও মুঠোফোন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত পিকআপের চালক ও মালিককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং শনাক্ত হওয়া বাকি সদস্যদেরও শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।
গ্রেপ্তারদের আইনগত অবস্থা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা আছে। এর মধ্যে দুটি মাদক, একটি ডাকাতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলা দুটি। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ চক্রের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে এসে একই কৌশলে অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তারা রাত দুইটার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে পিকআপ নিয়ে বের হতেন। আর মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাইয়ের পর আবার সেখানে ফিরে যেতেন।



