গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা কার্যালয়ের ভেতরে এনামুল হক আকন্দ নামে এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ওই পৌরসভার সার্ভেয়ার কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে শ্রীপুর পৌরসভা কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় কম্পিউটার অপারেটর নাঈমের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) এবং শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত কাজী মিজানুর রহমান শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ এলাকার মৃত কাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে।
সাংবাদিক এনামুল হক আকন্দ শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া (উত্তর পাড়া) এলাকার মৃত আব্দুল ওহাব আকন্দের ছেলে। তিনি দৈনিক মানবজমিনের শ্রীপুর প্রতিনিধি এবং বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের (ডিজিটাল) গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এনামুল হক আকন্দ জানান, সংবাদ সংক্রান্ত কাজে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কার্যালয়ে যান। দোতলায় কাজ শেষে তৃতীয় তলায় কম্পিউটার অপারেটর নাঈমের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু নাঈম কক্ষে না থাকায় তিনি ফিরে আসার সময় সার্ভেয়ার কাজী মিজানুর রহমান সাংবাদিককে পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলেন, ‘ভাই একটু দাঁড়ান, আপনার সাথে কথা আছে। নাঈমের কক্ষে তিনি বসেন। পরে তিনি সাংবাদিককে বলেন, ‘আপনি আমাকে চেনেন?’ সাংবাদিক এনামুল বলেন, ‘না, আমি আপনাকে চিনি না।’ এ সময় অভিযুক্ত সার্ভেয়ার মিজান বলেন, ‘আমি অফিস চলাকালে চেয়ারে বসে ঘুমিয়েছিলাম– এ ভিডিও ধারণ করে কেন ফেসবুকে ছেড়েছেন?’ তিনি বলেন, ‘আমি ফেসবুক সাংবাদিক না; আপনার ঘুমিয়ে থাকার ভিডিও আমার ফেসবুকে ছাড়িনি।’
এ সময় মিজান সাংবাদিককে অকথ্য গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর করে লাঞ্চিত করেন। তখন সাংবাদিকের চিৎকার শুনে পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিক সহকর্মীরা পৌরসভা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক এনামুল হক আকন্দকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
শ্রীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন সাংবাদিক এনামুল হক আকন্দের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এ ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। হামলাকারী কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা চাই।’
শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম সানি বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই হামলার ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি এই হামলায় জড়িত মিজানকে পৌরসভা থেকে প্রত্যাহার এবং ন্যায়বিচারে সহায়তা দিতে পুলিশের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযুক্ত কাজী মিজানুর রহমান সাংবাদিক এনামুল হক আকন্দকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ফোনে কিছু বলতে পারবো না।’ তিনি সাংবাদিকদের রেলগেইট চা স্টলে চা পানের দাওয়াত দেন।
শ্রীপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুন-অর রশীদ বলেন, ‘অফিসের তৃতীয় তলায় মারামারির ঘটনা সত্য এবং আমি তাদের দুই দিকে সরিয়ে দিয়েছি।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, ‘পৌরসভা কার্যালয়ে অফিস চলাকালে অফিস কক্ষে সাংবাদিককে মারধররের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুর-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘পৌরসভা কার্যালয়ে অফিস চলাকালে একজন সাংবাদিককে মারধর করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।



