বিমানের শীর্ষ কর্মকর্তার পদোন্নতি রহস্যজনকভাবে বাতিল
বিমানের কর্মকর্তার পদোন্নতি কয়েক ঘণ্টায় বাতিল

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তাকে সকালে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদ থেকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিকেল গড়াতেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে। সোমবার এই ঘটনা ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পদোন্নতি ও বাতিলের ঘটনা

পদোন্নতি পাওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. মিজানুর রশীদ। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিমান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের সই করা এক আদেশে মিজানুর রশীদকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। এই খবর প্রকাশের পর বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

তবে কয়েক ঘণ্টা না যেতেই পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় নেয়। বিকেলে একই বিভাগ থেকে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পদোন্নতি ও পদায়নের আগের আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। কী কারণে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে বিমানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুদকের অনুসন্ধান ও পূর্বের ঘটনা

বিমানের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পান, তবে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ মার্চ মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদে থাকাকালীন তাঁকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই তাঁকে আবার প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও দেওয়া হয়, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চ পদ।

হঠাৎ পদোন্নতি এবং তা বাতিলের বিষয়ে জানতে বিমান কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বিমানের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক জটিলতা ও দুদকের তদন্তের প্রভাব নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।