সিলেটে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলায় ২৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের অধীনে এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মামলার বিস্তারিত
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ৩৯টি মামলায় ১৪৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অপরদিকে, সিলেট রেঞ্জের তিন জেলার ২০টি মামলায় ১৪০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তে ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ধারা ১৭৩(এ) এর প্রয়োগ
তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারার কার্যকর প্রয়োগের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ হয় এবং তদন্তে স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মান উন্নত করা যায়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পূর্ব বিরোধ, প্রতিশোধপরায়ণতা কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অনেককে এসব মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে নিরপরাধ ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হচ্ছে।
আইনি প্রক্রিয়া
উল্লেখ্য, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-১৮৯৮-এ ধারা ১৭৩ (এ) সংযোজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই ধারার বিধান অনুযায়ী, হয়রানিমূলকভাবে কোনো ব্যক্তির নাম মামলার এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত হলে তদন্ত কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে পারেন। আদালত সেই প্রতিবেদন বিবেচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
সিলেট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় অব্যাহতির সুপারিশ আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



