আদাবরে ফের সক্রিয় ‘কব্জি কাটা’ গ্যাং, ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাই
রাজধানীর আদাবরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপ। সাবেক প্রধান আনোয়ার ওরফে পানি আনোয়ার বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু সাঈদের নেতৃত্বে গ্রুপটি নিয়মিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলামের স্বজন মো. মুসলিম জানান, সকালে শফিকুল বাসা থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে দোকানে আসেন। দোকান খুলে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪ থেকে ৫ জন যুবক চাপাতি হাতে সেখানে হাজির হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তার ডান হাতে কোপ দেয়। পরে তার কাছে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা এবং বিকাশ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এলাকায় অপরাধের চিত্র
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদাবর এলাকায় ছিনতাই, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোমবার রাতেও আদাবর ১০ নম্বর বালুর মাঠ এলাকায় কয়েকটি গ্যারেজে লুটপাট চালানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মঙ্গলবার সকালে একই এলাকায় অস্ত্রের মুখে ও কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আদাবর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগে গ্রুপটির নেতৃত্ব দিতো আনোয়ার ওরফে পানি আনোয়ার। সে কারাগারে থাকায় বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার বাল্যবন্ধু আবু সাঈদ। তিনিও দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে গ্রুপটির ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছে বলে জানা যায়।
গ্রুপের সদস্য ও এলাকা
স্থানীয়দের দাবি, গ্রুপটির সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে রয়েছে কব্জি কাটা আনোয়ারের ভাই দেলোয়ার, চোরা রুবেল, টানা আমীর, শাহিন, পিকআপ রুবেল, মাওরা সোহেল, রানা, আরিফ, লিটন, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত আপন, মেহেদী ও সুজন। তারা আদাবর ১০ ও ১৭ নম্বর এলাকা, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং এবং মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান, নবীনগর, চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। ভুক্তভোগীকে থানায় এসে মামলা করার জন্য বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই আদাবর ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী চক্রের তৎপরতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক ছিনতাই ও লুটপাটের ধারাবাহিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।



