বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় ইশতেহার বাস্তবায়ন ও স্থানীয় নির্বাচন প্রস্তুতি জোরদারের সিদ্ধান্ত
বিএনপির সভায় ইশতেহার বাস্তবায়ন ও নির্বাচন প্রস্তুতি জোরদার

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার, দ্রুত জাতীয় কার্যকরী কমিটির সভা আয়োজন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সভার বিবরণ ও অংশগ্রহণ

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে চলমান বন্যা, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

সরকারের প্রকল্প পর্যালোচনা

বৈঠকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য ভাতা প্রদানের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটি। সভায় বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম

সভায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত জাতীয় কার্যকরী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও পর্যালোচনা করা হয়। নির্বাচনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে।

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা

সভায় বিরোধী দলগুলোর জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে জনগণের কাছে বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে দলীয় প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব জোরদারে এসব সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সফর সফল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তারা।

সভায় সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট দেশ দুটিকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান নেতারা। সভা মনে করে এই যুদ্ধ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচন ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত

সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই বিজয় বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে দেশে মাদক সমস্যার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

দলীয় কার্যক্রম জোরদার ও শোকপ্রস্তাব

বৈঠকে দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিএনপির সব ইউনিটকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদারের নির্দেশ দেন দলীয় হাইকমান্ড। দলের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা এবং সাবেক চিফ হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী হারুন-অর-রশীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানের শারীরিক সুস্থতা কামনা করেন নেতারা।