বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, একটি বিশেষ মহল সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। তিনি নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মাধ্যমে এসব অপপ্রচার মোকাবিলা করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় বক্তব্য
সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ২০১১ সালে ৬ জুলাই জাতীয় সংসদের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
অতীতের আন্দোলন প্রসঙ্গে
শামসুজ্জামান বলেন, “অতীতে বিএনপির সভা-সমাবেশ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। সভা শেষে কে বাড়ি ফিরবেন আর কে কারাগারে যাবেন, সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেও নেতাকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।” ২০১১ সালে জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “প্রকাশ্যে একজন সংসদ সদস্যের ওপর এমন হামলা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। ওই হামলার বিচার হলে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশের প্রতিফলন দেখা যাবে।”
দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান
তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত মান-অভিমান বা পাওয়া না পাওয়ার হিসাবের চেয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। দেশকে সমৃদ্ধ করা, কৃষক-শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানো, বেকারত্ব দূর করা এবং আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে হবে।” এসময় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কৃষক, শ্রমিক ও বেকারদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।” একই সঙ্গে দেশে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধরে রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
সবার প্রতি আহ্বান
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই।” এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এ বি এম ফারুক, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ও ইসমাইল হোসেন সিরাজীসহ প্রমুখ।



