খুলনায় বিএনপি নেতা কচির লাশ কবর থেকে উত্তোলন, ময়নাতদন্তের নির্দেশ
খুলনায় বিএনপি নেতা কচির লাশ কবর থেকে উত্তোলন

খুলনায় জাতীয় নির্বাচনের দিন নিহত মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচির মরদেহ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার দুপুরে নগরের টুটপাড়া কবরস্থান থেকে তাঁর মরদেহ উত্তোলন করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের পর তা আবার ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ ও উত্তোলন প্রক্রিয়া

ওই ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুনশিখানা শাখা থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

মরদেহ উত্তোলনের সময় টুটপাড়া কবরস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে মরদেহ আবার ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ ও মামলা

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যু হয়। তিনি খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে ওই কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোট গ্রহণ শুরুর পর কেন্দ্রের ভেতরে পুকুরপাড় এলাকায় কয়েক ব্যক্তি ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিলেন। এর প্রতিবাদ করলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কচির ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে আলিয়া কামিল মাদ্রাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুর রহিম সরদার তাঁর গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেদিন খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, ‘সকালে আলিয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রে জামায়াত নেতার আঘাতে খুলনা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অবিলম্বে জামায়াত নেতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তারের এবং যাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কচি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

পিবিআই তদন্ত ও মামলার বর্তমান অবস্থা

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এক পক্ষ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও অন্য পক্ষ হৃদ্‌রোগে স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলে আসছে। এ অবস্থায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং তদন্তকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে পিবিআই মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহতের পরিবার শোকাহত থাকায় ঘটনার কিছু দিন পর খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন (মজনু) খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা ওই মামলায় আবদুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।

মরদেহ উত্তোলনের সময় মামলার বাদী ইউসুফ হারুন (মজনু) বলেন, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে তিনি হট্টগোল দেখতে পান। তাঁর দাবি, কচির ওপর হামলা হয়েছিল এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্যই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

ইউসুফ হারুন বলেন, ‘মহিবুজ্জামান কচি খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’