সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দীন সরকারের গায়েবানা জানাজা রোববার দুপুরে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় ঈদগাঁও মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে পঞ্চগড়ের ৫টি উপজেলায় পৃথকভাবে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিন দিনের শোক ও কালো ব্যাচ ধারণ
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মৃত্যুতে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি পঞ্চগড়ে ৩ দিনের শোক পালন ও কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচি পালন করছে। জেলা বিএনপি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানাজায় অংশগ্রহণ
পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় ঈদগাঁও মাঠে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাজায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে মরহুমের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।
বক্তাদের শ্রদ্ধা
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, অ্যাডভোকেট আদম সূফী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। তারা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের রাজনৈতিক জীবনের সততা, জনসেবামূলক অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, তিনি শুধু বিএনপির নেতাই ছিলেন না, পঞ্চগড়বাসীর কাছেও তিনি ছিলেন অভিভাবকতুল্য।
শোকের ছায়া
রোববার সকালে জমিরউদ্দীন সরকারের মৃত্যুর খবর পঞ্চগড়ে ছড়িয়ে পড়লে তার জন্মস্থান তেঁতুলিয়ার ভজনপুরসহ পঞ্চগড় জেলার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতার লাশ ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
জীবন ও কর্ম
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার ৯৪ বছর বয়সের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে রোববার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি তার এলাকায় বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, অসংখ্য মানুষের চাকরির ব্যবস্থাসহ এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক পঞ্চগড়ের রূপকার ও সবার অভিভাবক।



