মেহেরপুরের গাংনীতে বিএনপি নেতার ওপর গুলি, গুরুতর আহত
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনের ওপর দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে। এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মুকুল হোসেনের বুকে ও পিঠে মোট চারটি গুলি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
এই গুলির ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর ৫টায় গাংনী উপজেলার কাথুলি সড়কে। মুকুল হোসেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সাহারবাটি গ্রামের নেক মহাম্মদের ছেলে হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হন এবং কাথুলি সড়কের সাহারবাটি ও ভাটপাড়ার মাঝামাঝি কাশেম মোড় নামক স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর চারটি গুলি করে পালিয়ে যায়।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় মুকুল হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তার অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন এবং জরুরি চিকিৎসা প্রদান করছেন।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির চারটি খোসা উদ্ধার করেছে এবং তদন্ত কাজ শুরু করেছে। ওসি উত্তম কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য।'
আগের হামলার ইতিহাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকুল হোসেনকে এর আগেও দুই দফায় বোমা হামলা চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাতের শিকার হতে পারেন। পুলিশ এই দিকগুলোও তদন্ত করছে এবং সম্ভাব্য মোটিভ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এই গুলির ঘটনায় গাংনী এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করবে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।



