ফেনীর সোনাগাজীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৫ জন আহত, তিনজন আটক
সোনাগাজীতে বিএনপি গ্রুপ সংঘর্ষে ৫ আহত, ৩ আটক

ফেনীর সোনাগাজীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত, তিনজন আটক

ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের দুই গ্রুপের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কাজীরহাট ও লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনা ও আহতদের অবস্থা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিএনপির যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ সুমন, হারুন ও ফয়সাল আহত হন। আহতদের ফেনী সদর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সোনাগাজীর কাজীরহাট বাজারে চুরি ও চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনকে নিজ দলীয় নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জসিম উদ্দিন দাবি করেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে যুবদলকর্মী বাবুর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে তাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও দলীয় নেতাদের বক্তব্য

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এবং বগাদানা ইউনিয়নের কাজীরহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছি এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, "এসব ঘটনা ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে হয়েছে, এতে দলীয় কোনো বিষয় নেই। তবে কাজীরহাটে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে স্থানীয় মাদকাসক্তরা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলা করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ঘটনার পটভূমি ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

সোনাগাজী এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়। শুক্রবারের সংঘর্ষের পর পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

আহত নেতাকর্মীদের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।