এম ইলিয়াস আলীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় সিলেটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় সিলেট জেলা বিএনপি একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ১৪ বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই দোয়া মাহফিল-পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি)।
মন্ত্রীর বক্তব্য: ইলিয়াস আলীর ত্যাগ ও গণতন্ত্রকামী ভূমিকা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন ত্যাগী, সাহসী ও গণতন্ত্রকামী নেতা। তিনি সব সময় জনগণের অধিকার ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। দেশের জন্য কথা না বললে হয়তো তিনি গুম হতেন না। তিনি গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ইলিয়াস আলীকে হয়তো আমরা ফিরে পাব না, কিন্তু তাঁর পরিবারসহ পুরো সিলেটবাসী এখনো প্রতীক্ষায় রয়েছে।
এ সময় মন্ত্রী জানান, সিলেটের বাসিয়া নদী খননকাজ এবং জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগির সিলেট সফরে আসবেন।
জেলা বিএনপি নেতাদের বক্তব্য: গুমের ঘটনায় উদ্বেগ
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী দোয়া মাহফিল-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, ইলিয়াস আলী দলের ক্রান্তিলগ্নে সিলেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর গুম হওয়ার বিষয়টি গভীর বেদনা ও উদ্বেগের। তাঁরা এ ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীও বক্তব্য দেন।
মন্ত্রীর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ: গুমের দায় রাষ্ট্রের
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ১৪ বছর হয়েছে ইলিয়াস আলী গুমের শিকার হয়েছেন। তিনি গুম হয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। যে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রতিহিংসার শিকার। এখন পর্যন্ত ইলিয়াস আলীকে আমরা পাই নাই, পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না, তা-ও জানি না। তবে একটাই কথা বলব, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন, আত্মাহুতি দিয়েছেন দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।
কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আশিক উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদ আহমদ, মাহবুবুর রব চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, কোহিনূর আহমদ, আল আসলাম মুমিন, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আহমদ, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম, সহপ্রচার সম্পাদক শাহীন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইলিয়াস আলী গুমের পটভূমি
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ গুম হন ইলিয়াস আলী। বিএনপির অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন তাঁকে গুম করেছে। ওই সময় ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে টানা এক সপ্তাহ হরতাল পালিত হয় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। তখন হরতালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রদল ও যুবদলের তিন কর্মী নিহত হয়েছিলেন।



