বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ৬ মাসের মধ্যে শেষ করা: সামান্থা শারমিন
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বলেছেন, বিএনপি সরকারের উচিত বিতর্কিত অধ্যাদেশ বাতিলসহ কর্মকাণ্ড ছয় মাসের মধ্যে শেষ করা। তিনি গোল টেবিল আলোচনায় এই মন্তব্য করেন।
সরকারের দায়িত্ব ও সময়সীমা
সামান্থা শারমিন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও পাওয়ার স্ট্রাকচার অনুযায়ী যে কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে শেষ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের দেড় মাসের মধ্যে বা সময় বাড়িয়ে ছয় মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে চাইবে, যা যুক্তিযুক্ত।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ছয় মাস বা এক বছর পর সরকারের আয়ু কমতে থাকে, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগের অত্যাচার কপি করা সম্ভব নয়, তবে যন্ত্রণার বোধ ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যা পতনের কারণ হতে পারে।
অহংকার ও দায়িত্বহীনতার সমালোচনা
সামান্থা শারমিন বিরোধী দল ও সরকারি দল উভয়ের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার একের পর এক অধ্যাদেশ বাতিল করছে কিন্তু জবাবদিহির মধ্যে আসছে না, যা অহংকারের লক্ষণ। সংসদে এই অহংকার উভয় পক্ষের আচরণে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বিরোধী দলও সবকিছু উপস্থাপন করতে পারছে না, এবং সরকারি দল অহংকারকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভিশন নেই এবং তারা মনে করে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দুর্বল হলে সরকার চালানো যায় না, যা তাদের গোপন ভাবনা।
মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
সামান্থা শারমিন গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ বাতিলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। অসংখ্য পরিবার গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে আক্রান্ত হয়ে বিচারহীনতায় ভুগছে।
তিনি বলেন, এই পরিবারগুলোর সুরক্ষা সরকারকেও সুরক্ষা দিতে পারতো, কারণ মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হলে তারা আশ্রয়স্থল হতে পারতো। অধ্যাদেশ বাতিল শুধু আইনি জটিলতা তৈরি করছে না, বরং বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও হীনমন্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সামান্থা শেষে বলেন, এই পরিবারগুলো বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্গ হতে পারতো, কিন্তু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তা সম্ভব হচ্ছে না।



