বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ শর্ত
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই প্রক্রিয়া উদ্বোধন করা হয়।

মনোনয়ন ফরমের মূল্য ও সময়সীমা

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার টাকা। এছাড়া, ফরম জমা দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে।

প্রার্থী বাছাইয়ের শর্তাবলি

উদ্বোধনী বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে বিএনপির অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যেসব নারী নেতা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলে অবস্থানের কারণে বিএনপির নারী নেত্রীদের কারাবরণসহ নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, তাই দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সবদিক বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান রিজভী। এর মধ্যে রয়েছে:

  • জুলাই আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ও অংশগ্রহণ
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারিত্ব
  • রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় কাজে অবদান
  • জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য প্রদান ও আইন প্রণয়নের সক্ষমতা

তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন যে, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিএনপির এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটি আশা করছে যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল নারী নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, যারা সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নারী ক্ষমতায়নের একটি পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে।