নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানার ঝুট ব্যবসার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের চাঁদনী হাউজিং এলাকায় স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অনুসারীরা গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, যার ফলে পথচারীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ এবং একজন আহত হয়েছেন।
আহতদের পরিচয় ও চিকিৎসা
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন পথচারী মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ ইমরান (১০ বছর) এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২২ বছর)। রাকিবুল ইসলাম রাকিব ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খোকার ছেলে। আহত ব্যক্তি হলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. রফিক (৪০ বছর)। গুলিবিদ্ধ দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্যদিকে মো. রফিককে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণ ও ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদল নেতা সারজিল আহমেদ এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান মাসুদের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সকালে সারজিল আহমেদের সঙ্গে মাসুদুজ্জামানের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
মোহাম্মদ হোসেনের অভিযোগ, ঝুট ব্যবসা নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রতিপক্ষ মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও সারজিল আহমেদের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং গুলি চালান। তিনি বলেন, ‘এতে আমার ছেলে রাকিবসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে এক পথচারীও আহত হয়েছে।’
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ মান্নান জানান, একটি গার্মেন্টসের ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।’
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনাটি ঘটেছে। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘গার্মেন্টসের ঝুট নামানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়টি শুনেছি। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে। কী কারণে, কেন এই ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করে দেখছি আমরা।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সারজিল আহমেদের লোকজন কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় রাকিব ও পথচারী মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ ইমরান গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে মো. রফিক আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে জানতে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও ইউনিয়ন যুবদল নেতা সারজিল আহমেদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।



