বিএনপির দমনমূলক প্রবণতা নিয়ে আসিফ মাহমুদের তীব্র সমালোচনা
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপি সরকারের দমনমূলক অবস্থানের প্রতি তীব্র সমালোচনা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই বিএনপির মধ্যে দমনমূলক প্রবণতার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
গোলটেবিল আলোচনায় উত্থাপিত অভিযোগ
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্য রাখেন। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে দমনমূলক অবস্থানে পৌঁছালেও বিএনপি খুব দ্রুত সেই পথে এগোচ্ছে।’ তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বিচারকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের আলোচনার স্ক্রিনশট সরকারের অপছন্দ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাসের অভিযোগ
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে আবারও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে, যা দুই বছর আগের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি। এনসিপির এক অঙ্গসংগঠনের নেতাকেও এ ধরনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা সহ্য করতে না পারলে তা স্পষ্টভাবে জানানো বা আইন প্রণয়ন করা উচিত।’ একই সঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার প্রবণতারও সমালোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে দেশ এখন উলটো পথে হাঁটছে। সরকারের মধ্যে ‘অ্যাবসোলিউট পাওয়ার’-এর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি যদি জনবিরোধী বা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা দ্রুতই সামনে আসুক, যাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে জনগণ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
সংবিধান পুনর্লিখন ও অধ্যাদেশ বাতিলের প্রসঙ্গ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, সংবিধান পুনর্লিখনের প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে আপসের সংস্করণটিও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এমনকি যেসব অধ্যাদেশ সরকারের ক্ষমতা কমায় না, সেগুলোও বাতিল করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, এই পদক্ষেপগুলো সরকারের ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের ইঙ্গিত বহন করে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে।
সামগ্রিকভাবে, আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে বিএনপি সরকারের দ্রুত দমনমূলক অবস্থান গ্রহণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হ্রাস, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সরকারকে সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা দেখানোর এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।



