নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ দুই পথচারী
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এই সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পথচারীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে ইউনিয়ন যুবদল নেতা সারজিল আহমেদ এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান মাসুদ পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে আজ সকালে সারজিল আহমেদের সঙ্গে মাসুদুজ্জামানের অনুসারী মোহাম্মদ হোসেনের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অনুসারীরা গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন পথচারী মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ ইমরান (১৪) ও রাকিবুল ইসলাম (২২)। সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাঁরা গুলিবিদ্ধ হন, পরে আশপাশের লোকজন তাঁদের নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহতদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে, এবং হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
বিবাদী পক্ষের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্ত
মোহাম্মদ হোসেনের অভিযোগ, ঝুট ব্যবসা নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রতিপক্ষ সারজিল আহমেদ ও তাঁর লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং গুলি চালান। এতে তাঁর পক্ষের রাকিবসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, সারজিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম (টিটু) বলেন, ‘গার্মেন্টসের ঝুট নামানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়টি শুনেছি। এর সঙ্গে যাঁরাই জড়িত থাকুক না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে। কী কারণে, কেন এই ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করে দেখছি।’
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের তদন্তে এই সংঘর্ষের পেছনের কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



